উন্নতি হচ্ছে বন্যা পরিস্থিতির : বাড়ছে নদী ভাঙ্গন

অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলের কারনে শরীয়তপুরের পদ্মা ও কীর্তিনাশা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ফলে পানি বন্দি হয়ে পড়েছে জাজিরা, নড়িয়া ও ভেদরগঞ্জ উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের শতাধিক গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ। স্রোতের তীব্র গতিতে নতুন নতুন এলাকায় দেখা দিয়েছে ভয়াবহ নদী ভাঙন।

ভাঙনের কবলে জমিজমা বসত বাড়ি হারা মানুষ ভাসছে বন্যার পানিতে। ফসল হারিয়েছে কৃষকরা। চারদিকে পানি থাকায় কাজ করতে পারছেননা নিন্ম আয়ের সাধারণ মানুষ। দরিদ্র পরিবারগুলোর মাঝে খাদ্যাভাব দেখা দিলেও বেশির ভাগ স্থানে পৌঁছায়নি কোন ত্রান সহযোগীতা। তবে সরকারী ত্রান সহযোগিতার জন্য নদীভাঙন ও বন্যা কবলিত অসহায় দরিদ্র মানুষের নামের তালিকা প্রস্তুতের নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহমুদুল হোসাইন খান।

 

vlcsnap-2017-07-17-15h59m09s235

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ, সাঘাটা, ফুলছড়ি ও সদর উপজেলার বন্যা পরিস্থির উন্নতি হয়েছে। তবে ভাঙনে অনেকের ঘরবাড়ি বিলীন হয়ে গেছে বলেও জানান স্থানীয়রা। প্রয়োজনের তুলনায় ত্রাণ পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন তারা।

যমুনার পানি কমতে শুরু করায় জামালপুরের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগ কমেনি। গত ২৪ ঘন্টায় যমুনার পানি ২৯ সেন্টিমিটার কমলেও, বাহাদুরাবাদ পয়েন্টে এখনো বিপদসীমার ৩০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। খাদ্য সংকট সহ প্রকটভাবে ছড়িয়ে পড়েছে পানিবাহিত রোগ। বেশীরভাগ এলাকায় দেখা দিয়েছে ঠান্ডা জ্বর-কাশি, পেটের পীড়া সহ চর্মরোগ।

দুই দিন আগে বগুড়ায় যমুনা নদীর পানি কমতে শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত বিপদসীমার ২৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সেইসাথে ভাঙ্গনও তীব্রতর হয়েছে। বন্যা কবলিত এলাকায় সরকারী ত্রাণ সহায়তা দেয়া হচ্ছে এবং মেডিকেল টিমসহ সুপেয় পানির ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

এদিকে যমুনার সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে পানি কমলেও তা এখনো বিপদসীমার ৪৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে এখনো ঘরে ফিরতে পারেনি বন্যা দুর্গতরা।

কুড়িগ্রামের বিভিন্ন পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তার পানি বিপদ সীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় রাজারহাট, উলিপুর, চিলমারি, রৌমারি ও চর রাজিবপুর উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তবে চিলমারির নয়ারহাটে ব্রহ্মপুত্রের ভাঙ্গনে দেড়শরও বেশি বাড়িঘর নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। আর রাজারহাটে তিস্তার ভাঙ্গনে নদী গর্ভে বিলিন হয়েছে প্রায় দেড়শ’ ঘরবাড়ি।

এদিকে আগের বরাদ্দ ত্রাণ শেষ হয়ে যাওয়ার পর নতুন করে সাতশ’ মেট্টিকটন চাল, ১১ লাখ টাকা ও শুকনো খাবার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসক আবু সালেহ মোহাম্মদ ফেরদৌস খান।

আর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রান মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া সকালে জেলার চিলমারি উপজেলার শাখাহাতিতে এক সমাবেশে বলেন, না খেয়ে কেউ মারা যাবে না। পর্যাপ্ত ত্রাণ আছে পর্যায়ক্রমে তা দেয়া হবে। বন্যা কবলিতদের কাছ থেকে এখন কিস্তি না নিতে এনজিও গুলোর প্রতি অনুরোধও জানান মায়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Radio Today 89.6fm