সেলিব্রেটি বিড়াল ‘গ্লাডস্টোন’

গাজী হাবীবা আফরোজ : ‘গত বছর ২২টি ইদুর ধরেছি। আমি বিশ্বাস করি আরো এগিয়ে যাব। দুটি মাছিও মেরেছি– কাজটা যত সহজ মনে হয় তার চেয়ে অনেক বেশি কঠিন’। গত শুক্রবার এমন এক বার্তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বদৌলতে নজর কেড়েছে অনেকের।

ভাবছেন- সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইদুর ধরা আর মাছি মারার খবর দিল কে ? না, সে আপনার আর আমার মত কোন মানুষ নয়; সে এক বিড়ালের কান্ড। নাম তার গ্লাডস্টোন; উনিশ শতকের দীর্ঘদিনের ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইলিয়াম গ্লাডস্টোনের নামানুসারে যার নামকরন।

ছবি টেলিগ্রাফ

ছবি টেলিগ্রাফ

ইদুরের উৎপাত বেড়ে যাওয়ায় গত বছর একটি অভয়াশ্রম থেকে গ্লাডস্টোন নামের ওই বিড়ালকে নিয়ে আসা হয় এবং নিয়োগ দেওয়া হয় যুক্তরাজ্যের অর্থ মন্ত্রনালয়ে; ইদুর মারাই যার মুল কাজ। নিয়োগের পর গত এক বছরের সাফল্যের কথা তুলে ধরতেই ওই বার্তা দেয় সামজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তৎপর বিড়ালটি।

এছাড়া চলতি বছরের শেষ দিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের প্রধান ক্রিস্টিন লাগার্দের লন্ডন সফরের সময় তার সঙ্গে দেখা করার বাসনাও ব্যক্ত করে বিড়ালটি। ইনস্টাগ্রামে তার অনুসারীর সংখ্যাও কম নয়, প্রায় ১০ হাজার।

ভাবছেন একটি বিড়ালের পক্ষে এসব করা সম্ভব কিভাবে! আসলে তার অ্যাকাউন্টগুলো ছবি সহ নানা পোস্ট দিয়ে সচল রাখেন ব্রিটিশ কর্মকর্তারাই।

গ্লাডস্টোন ছাড়াও ব্রিটিশ দপ্তরগুলোতে এরকম আরো বিড়াল রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মের কার্যালয়ে আছে সবচেয়ে পুরনো বিড়াল ল্যারি; যার অফিসিয়াল টুইটার অ্যাকাউন্টে অনুসারীর সংখ্যা প্রায় ৪৮ হাজার।

আর পররাষ্ট্র দপ্তরে কাজ করছে প্যালমারস্টোন নামের বিড়ালটি; দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্যালমার স্টোনের নামে যার নামকরণ করা হয়। গুরুত্বপূর্ণ ওই ভবনগুলো থেকে ইদুর নিধন করে সেখানকার দাপ্তরিক কাগজপত্রের সুরক্ষা দেয়ার ব্যাপারে বেশ তৎপর ওই বিড়ালগুলো।

দেশটির গুরুত্বপূর্ণ কূটনীতিক ও মন্ত্রীদের সঙ্গে একই কার্যালয়ে থাকা ওই বিড়ালগুলি তাদের নিজ নিজ দায়িত্বের ব্যাপারে তৎপর হলেও বিড়ালগুলির ইমেজ নিয়ে পারস্পরিক দ্বন্দ্বের কথাও কারো অজানা নয়।

আর তাইতো গ্লাডস্টোনের সাফকথা – ‘নিজেকে বলতে হবে– তুমিই সেরা বিড়াল। আর কালো বিড়ালতো সবসময়ই এগিয়ে’।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Radio Today 89.6fm