মেহেরপুরে সেচ দিতে মনিরুলের রিমোট কন্ট্রোল

মাজেদুল হক মানিক, মেহেরপুর জেলা প্রতিনিধি : দক্ষিন-পশ্চিমাঞ্চলে বৈদ্যুতিক সেচ পাম্প পরিচালনায় যুগান্তকারী পরিবর্তন ঘটিয়েছে ছোট্ট একটি ডিভাইস ; যা রিমোট কন্ট্রোল হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

ডিভাইসটির মাধ্যমে দুর থেকে সেচ পাম্প চালু ও বন্ধ করার সুবিধার কারণে এটি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের পাশাপাশি কমছে শ্রমিক ও কৃষকদের উৎপাদন খরচও।

Screenshot_1মেহেরপুর সদর উপজেলার শ্যামপুর গ্রামের ইলেকট্রিক মিস্ত্রি মনিরুল ইসলামের তৈরী করা ডিভাইসটি সারাদেশের সেচ পাম্পগুলোতে ব্যবহার করতে পারলে, কৃষি খাতে মোটা অংকের অর্থ সাশ্রয় হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন-বিএডিসি অল্প খরচে সেচ সুবিধা দিতে চালু করে ক্ষুদ্র সেচ প্রকল্প। এ প্রকল্পের আওতায় মেহেরপুর জেলায় ৪৫টি গভীর নলকুপ বসানো হয়েছে।

সেচ কাজ পরিচালনার জন্য প্রতিটি নলকুপ থেকে তৈরি করা হয়েছে বারশ’ মিটার পর্যন্ত সেচ নালা। বিপুল পরিমাণ জমিতে সেচ দিতে গিয়ে বিদ্যুত ও পানি অপচয় হবার পাশপাশি এবং শ্রমিকও লাগে বেশি।

এ সমস্যা সমাধানে দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর একটি ডিভাইস আবিষ্কার করেছেন, স্থানীয় ইলেকট্রিক মিস্ত্রি মনিরুল ইসলাম। দু’টি মোবাইলের সমন্বয়ে ডিভাইসটির মাধ্যমে দুর থেকে সেচ পাম্প চালু ও বন্ধ করা যাচ্ছে।

ফলে পানি ও বিদ্যুৎ অপচয় রোধ হওয়ায় আর্থিক ভাবে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা। অভিনব এই সুবিধা পাওয়ায় সেচ পাম্প মালিক এবং কৃষকদের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে মনিরুলের আবিষ্কৃত রিমোটকন্ট্রোল।

একজন শিক্ষার্থীর দেয়া ধারণা থেকেই ডিভাইস তৈরিতে মনযোগী হন ইলেকট্রিক মিস্ত্রি মনিরুল ইসলাম। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর তিনি সফল হওয়ায় অনেকেই এখন ডিভাইসটি তৈরি করে নিতে তার কাছে ভিড় জমাচ্ছে।

ডিভাইসটি তৈরি করতে খরচ হচ্ছে মাত্র পাঁচ হাজার টাকা। রাষ্ট্রীয় পৃষ্টপোষকতা পেলে সারা দেশে নিজের আবিস্কৃত ডিভাইসটি ছড়িয়ে দেয়ার প্রত্যাশার কথা জানালেন, মনিরুল ইসলাম।

মেহেরপুর ক্ষুদ্র সেচ প্রকল্পের উপ-সহকারী প্রকৌশলী শাহ্ জালাল আবেদীন জানালেন, বিদ্যুৎ ও পানির অপচয় রোধে ডিভাইসটি ব্যবহার করতে জেলার সব পাম্পমালিককে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Radio Today 89.6fm