৪ ঘণ্টা পর লেবার পার্টির চেয়ারম্যানসহ তিন নেতা মুক্ত

চট্টগ্রাম নগরী থেকে ২০-দলীয় জোটের শরিক বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরানসহ তিন নেতাকে চার ঘণ্টা পর ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। তবে ছাত্রদল ও যুবদলের আট কর্মী এখনো আটক আছেন।

আজ মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে লেবার পার্টির তিন নেতাকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।

এর আগে সকাল থেকে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে লেবার পার্টির ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ‘রুখো আগ্রাসন, হটাও দুঃশাসন’ শীর্ষক প্রতিনিধি সম্মেলন হয়।

সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। দুপুর ১২টার দিকে সভা শেষে রিজভী ও লেবার পার্টির নেতারা প্রেসক্লাব মিলনায়তন থেকে বের হন।

রিজভী গাড়িতে উঠতে পারলেও পুলিশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ভাইস চেয়ারম্যান ফরিদ উদ্দিন, ভাইস চেয়ারম্যান ও সিলেট মহানগর লেবার পার্টির সভাপতি মাহমুদুর রহমান খালেককে টেনে-হিচড়ে তাদের গাড়িতে বসায়। পুলিশের গাড়িতে বসে ডা. ইরান হাত উঁচিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আগামী কালকে হরতাল। চট্টগ্রামে আগামী কালকে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল।’ এরপর লেবার পার্টির তিন নেতাকে নিয়ে যায় পুলিশ। বিকেল ৪টার দিকে পুলিশ তাঁদের ছেড়ে দেয়।

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দিন জানান, অনুমতি ছাড়া সভার আয়োজন ও অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির অভিযোগে লেবার পার্টির তিন নেতাকে আটক করা হয়েছিল। পরে তাঁরা দুঃখ প্রকাশ করলে বিকেল ৪টার দিকে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
 
যোগাযোগ করা হলে চট্টগ্রাম মহানগর লেবার পার্টির সভাপতি আলাউদ্দিন জানান, প্রেসক্লাবে প্রতিনিধি সম্মেলন করার জন্য তাঁরা পুলিশের অনুমতি নিয়েছিলেন। কিন্তু সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রজিভী প্রধান অতিধি থাকার খবর জানতে পেরে প্রশাসন রাত ১২টার দিকে অনুমতি বাতিল করে। কিন্তু তারা এই খবর পাননি। এদিকে তাদের সব আয়োজনও শেষ হয়। সকালে প্রেসক্লাবে নেতাকর্মীরা আসা শুরু করলে পুলিশ বাধা দেয়। পরে অতিথিরা অনুষ্ঠান শেষ করার পর পুলিশ পার্টির চেয়ারম্যানসহ তিনজন কেন্দ্রীয় নেতাকে আটক করে নিয়ে যায়।

আলাউদ্দিন আরো জানান, অনুষ্ঠান শুরুর আগে মিছিল নিয়ে আসার সময় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে ছাত্রদল ও যুবদলের ম. হামিদ, গুলজার হোসেন ও মো. আকতার হোসেনকে আটক করে পুলিশ।

এদিকে দুপুরে মহানগরের কাজীর দেউড়ি এলাকা থেকে ছাত্রদল ও যুবদলের মো. শরিফ, ইব্রাহীম, মামুন হোসেন, সোহাগ মিয়া, মো. আজাদ, মো. ফারুক, মো. মবিন ও নুরুল হককে আটক করে পুলিশ। মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদত হোসেন এই জানিয়েছেন। তিনি জানান, ছাত্রদল ও যুবদলের ওই ১১ জন নেতাকর্মীকে এখনো ছাড়েনি পুলিশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Radio Today 89.6fm