শিবিরের বাইরে এক লাখ রোহিঙ্গা

rohingya-3-gty-er-170914_4x3_992বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে প্রায় এক লক্ষ এখনো শিবিরের বাইরে অবস্থান করছে। তারা মূলত আছে স্থানীয়দের বিভিন্ন বাসা-বাড়ীতে কিংবা ক্যাম্পের বাইরে অবস্থান করা পুরানো রোহিঙ্গাদের সাথে।

এসব রোহিঙ্গাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যকের বসবাস টেকনাফের বাহার ছড়া ইউনিয়নে। কেন তারা ক্যাম্পের বাইরে অবস্থান করছে, কীভাবে তাদের জীবন যাপন চলছে বিষয়টি জেনে নেয়া যাক।

টেকনাফে বঙ্গোপসাগরের তীরবর্তী ইউনিয়ন বাহার ছড়া। সেখানকার শামলাপুর বাজারের পাশের মৎস্য অবতরন কেন্দ্র দিয়ে নৌ-পথে অনেক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। এই পথে যেসব রোহিঙ্গা প্রবেশ করেছেন তাদের একটি অংশ আবার সেখানে থেকে যাচ্ছেন। গত এক দশক ধরে বিছিন্নভাবে রোহিঙ্গারা সেখানে বসতি গড়ে তুলেছেন।

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ষাটোর্ধ নুরুল আমিন রেডিও টুডেকে বলছিলেন, মংডুর দক্ষিনে সীতাপাড়ায় অনেক জমি-জমা ছিলো তাদের, ১৯৯১ সালে শরনার্থী হয়ে এসেছিলেন বাংলাদেশে। জমি-ঘরবাড়ী ফিরে পাবে জাতিসংঘের শরনার্থী সংস্থা- ইউএনএইচসিআরের এই আশ্বাসে দুই বছর পর ফিরেও গিয়েছিলেন। কিন্তু সেই আশ্বাস বাস্তবায়ন হয়নি, উল্টো বাংলাদেশ ফেরত রোহিঙ্গা হিসেবে সব সময় আইন শৃংখলা বাহিনীর নজরদারিতে ছিলেন তারা। তিনি বলেন, ‌‌‍ক্যাম্পে প্রথম দিকে কোন সুযোগ সুবিধা ছিলোনা, কেউ কোন সহযোগিতা করতোনা, এখানে থাকলে স্থানীয়দের মাছ ধরার নৌকায় কাজ পেয়ে এখানে থেকে যায়, এখন আমার দুই ছেলে মাছ ধরে ভালোভাবেই জীবন নির্বাহ করছে।

download (2)বাহারছড়ায় নিজের বোনের ঘরে এসে উঠেছেন পাচ সন্তানের জননী মংডুর রহিমা খাতুন, আত্মীয়তার সূত্র ধরে বসবাস করছেন সেখানে। তিনি জানান, পালাতে গিয়ে তার স্বামী ও মেয়ে মিয়ানমারের সেনা-পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন। বাহারছড়ায় অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের জন্য জাতিসংঘ সাহায্য সংস্থা আই্ওএম সহ অন্য দাতা সংস্থাগুলো স্যানিটেশন, খাবার ও পানির ব্যবস্থা করেছে। রোহিঙ্গা শিশুদের জন্য চালু করা হয়েছে শিশু বান্ধব কেন্দ্র। এই রকম একটি কেন্দ্রের প্রশিক্ষক জামাল হোসেন জানিয়েছেন, ক্যাম্পের শিশুদের তুলনায় এসব শিশুরা বেশি সুযোগ সুবিধা পাচ্ছে।

বাহার ছড়া ইউনিয়নে এখন প্রায় ২৫ হাজার রোহিঙ্গা বসবাস করছেন, যার মধ্যে ১৫ হাজার রোহিঙ্গা এসেছে গত ২৫ আগষ্টের পর। অপর রোহিঙ্গারা এসেছে গত দশ বছরে ধরে। বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মৌলভী আবদুল আজিজ জানিয়েছেন, বিগত সময়ে যে সব রোহিঙ্গা সমুদ্র সৈকত সহ রাস্তা ও হাট বাজারে অবস্থান করছেন, তাদেরকে আইওএমের সহায়তায় সরিয়ে এক জায়গায় নিয়ে আসা হয়েছে।

এখন রোহিঙ্গারা সবাই গত বছর শুরু হওয়া রোহিঙ্গা শুমারীর অন্তর্ভূক্ত হয়েছেন। সদ্য যারা আসছেন তারাও প্রশাসনের সহযোগিতায় উখিয়ার বালুখালিতে সরকার নির্ধারিত স্থানে চলে যাচ্ছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Radio Today 89.6fm