অতিথি পাখির কল কাকলিতে মুখর জাহাঙ্গীরনগর ক্যাম্পাস

গাজী হাবীবা আফরোজ,  রেডিও টুডে।

পাতাঝরা হেমন্ত যেতে না যেতেই কুয়াশার চাঁদর পরে বাংলার জমিনে নামতে শুরু করেছে শীত। আর শীতের আগমনী বার্তা নিয়ে সাভারের জাহাঙ্গীরনগর বিশ^বিদ্যালয়ে আসছে ঝাঁকে ঝাকেঁ অতিথি পাখি। অতিথি পাখির কল কাকলিতে মুখর এখন পুরো বিশ^বিদ্যালয় ক্যাম্পাস। পাখি দেখতে সুবজ ঘেরা ওই ক্যাম্পাসে ভীড় করেন নানা বয়সের দর্শনার্থী। জাভেদ মোস্তফার পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতে শুনুন একটি ডেস্ক রিপোর্ট।

ষড়ঋতুর এই দেশে শীত আসে উৎসবের আমেজে। আর অন্য যেকোনো জায়গার চেয়ে সে উৎসবটা যেন একটু বেশিই জীবন্ত জাহ্ঙ্গাীর নগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। কারণ প্রতি বছরের ন্যায় এবারও শীত আগমনের সাথে সাথে ক্যাম্পাসে আসতে শুরু করেছে অতিথি পাখি। যান্ত্রিক এই নগর জীবনে নানান ফুল আর অতিথি পাখিদের খুনসুঁটিতে প্রকৃতির নিবিড় ছোয়া পেতে প্রতিদিনই সেখানে ভিড় জমাচ্ছেন দর্শনার্থীরা।

অতিথি পাখির কল-কাকলিতে ঘুম ভাঙ্গে শিক্ষার্থীদের। তাই বাইরের দর্শনার্থীদের পাশাপাশি সময়টা উপভোপ করছেন তারাও।

অসংখ্য লাল শাপলা আর রক্তকমলে সুশোভিত ক্যাম্পাসের ছোট বড় ১৭টি লেকেই খেলা করছে হিমালয়ের উত্তরের দেশ সাইবেরিয়া, চীন, মঙ্গোলিয়া, ভারত, নেপাল থেকে আগত অতিথি পাখিরা। কখনো উড়ছে, কখনো লেকের স্বচ্ছ জলে ডুব দিচ্ছে, আবার কখনোবা চুপটি করে বসে থাকছে ঝাকেঁ ঝাকেঁ সরালী, পিচার্ড, গার্গেনি, মুরগ্যাধি, মানিকজোড়, কলাই, নাকতা, জলপিপি, ফ্লাইপেচার, কোম্বডাক, পাতারি, চিতাটুপি ও লাল গুড়গুটি পাখি । এযেন প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের লীলাভুমি। যেমনটি বলছিলেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ^বিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মনোয়ার হোসেন।

প্রতি শীত মৌসুমে অতিথি পাখীদের আগমনে প্রকৃতি হয়ে উঠে সমৃদ্ধ। তাই পাখিরা যেন নির্ভয়ে এখানে অনেক দিন থাকতে পারে ; সেজন্য দর্শনার্থীদের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ করার অনুরোধ জানিয়েছেন, প্রাণীবিদ্যা বিভাগের এই অধ্যাপক।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Radio Today 89.6fm