হাড় কাঁপানো শীতে বিপর্যস্ত সারাদেশের জনজীবন

কনকনে ঠান্ডা আর হাড় কাঁপানো শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে রাজধানী ঢাকা সহ সারাদেশের জনজীবন। তীব্র শৈত্যপ্রবাহে দেশে গত পঞ্চাশ বছরের রেকর্ড ভেঙ্গে পঞ্চগড়ের তেতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে এসেছে। ঘনকুয়াশার কারনে বিঘ্নিত হয় যান ও নৌ-চলাচল। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এই পরিস্থিতি আরও দুই থেকে তিন দিন চলতে পারে।

দেশের উত্তরের শেষ জনপদ পঞ্চগড়ে শুক্রবার থেকে টানা শৈত্যপ্রবাহে তাপমাত্রা এখনো নিম্নুমুখী। হাড় কাঁপানো শীতে কাহিল হয়ে পড়েছেন ছিন্নমুল ও নিম্ন-আয়ের মানুষজন। সকাল হতে না হতেই তাদের অনেককেই খরকুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করতে দেখা যায়। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৩০ হাজার কম্বল সহ বিভিন্ন প্রকার শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। এদিকে তীব্র শীতে বয়স্ক ও শিশুরা শীতজনিত নানান রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। বর্তমানে জেলার আধুনিক সদর হাসপাতালে চল্লিশ শিশু শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি রয়েছেন। এছাড়া জেলার পাঁচ উপজেলার বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে শতাধিক শিশু ও শীতজনিত রোগী ভর্তি রয়েছেন। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় আজ তারা দেশের সর্বনিম্ন দুই দশমিক ৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করেছেন। ১৯৬৮ সালের পর দেশের কোথাও এটাই সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। সে সময় মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২ দশমিক ৭ ডিগ্রী সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছিল।


এদিকে উত্তরের আরেক জেলা নীলফামারীতে কনকনে শীত ও ঘন কুয়াশায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুনের উত্তাপ নিয়ে শীত নিবারনের চেষ্টা করলেও ঠিকমতো কাজে যেতে পারছেন না শ্রমজীবি মানুষ। আর প্রচন্ড শীতে শাস্বকষ্ট সহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভিড় বাড়ছে শিশুদের। ডিমলায় সকাল ৬ টার দিকে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩ ডিগ্রী সেলসিয়াস। জেলার ৬০টি ইউনিয়নে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রায় ৪১ হাজার শীতবস্ত্র বিতরন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নীলফামারির জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ খালিদ রহীম। এদিকে দিনাজপুরে আজ সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩ দশমিক ২ ডিগ্রী সেলসিয়াস। জেলার আবহাওয়াবিদদের মতে চলমান তীব্র শৈত্য প্রবাহ আরো কয়েকদিন বিরাজ করবে বলে জানিয়েছেন দিনাজপুর আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তোফাজ্জাল হোসেন। শৈত্য প্রবাহের কারনে শীতের তীব্রতায় দুর্ভোগ নেমে এসেছে কুড়িগ্রামের জনজীবনেও। কনকনে ঠান্ডা ও উত্তরের হাওয়ায় ঘর থেকে বের হওয়ায় কঠিন হয়ে পড়েছে মানুষজনের। সবচেয়ে দুর্ভোগে পড়েছে শিশু ও বৃদ্ধরা। কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে গত ২৪ ঘন্টায় শীতজনিত রোগে ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ জেলায় আজ সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩ দশমিক ১ ডিগ্রী সেলসিয়াস।

চুয়াডাঙ্গায় তীব্র শৈত্য প্রবাহ বয়ে চলেছে। আকষ্মিক এই শীতের কারণে চরম দূর্ভোগে পড়েছেন সেখানকার বাসিন্দারা। শীতের পাশাপাশি ঘনকুয়াশার কারণে যানবাহন চলাচল দারুণভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। প্রচন্ড ঠান্ডায় বাজারে মাছের সরবরাহ অর্ধেকে নেমে এসেছে। ঝালকাঠিতে হাঁড় কাপানো তীব্র শীতে কাপছে মানুষজন। দুই দিন ধরে প্রচন্ড ঠান্ডার সঙ্গে সেখানে যোগ হয়েছে ঘন কুয়াশা। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সড়কগুলোতে হেডলাইট জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া লঞ্চ ও গাড়িগুলো ঘন কুয়াশার কারণে অনেক দেরিতে পৌঁছাচ্ছে। শীতের কারণে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া সহ ঠান্ডাজনিত রোগ

ছড়িয়ে পড়েছে। এদিকে, দেশের উত্তরের জনপদ রংপুরে শীতজনিত রোগীদের চিকিৎসায় ৮১টি মেডিকেল টিম গঠন করেছেন জেলার সিভিল সার্জন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Radio Today 89.6fm