যৌনাচার লুকাতে অর্থও খসেছিল ট্রাম্পের

এক পর্ন অভিনেত্রীর সঙ্গে যৌনাচার লুকাতে নির্বাচনের আগে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সোয়া লাখ ডলার খসেছিল বলে খবর বেরিয়েছে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের শুক্রবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে ২০১৬ সালের অক্টোবরে পর্ন অভিনেত্রী স্টেফানি ক্লিফোর্ডকে ১ লাখ ৩০ হাজার ডলার দিয়েছিলেন ট্রাম্পের আইনজীবী মাইকেল কোহেন।

ওই বছরের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জয়ী হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হন বিতর্কিত ধনকুবের ট্রাম্প।

নিউ ইয়র্ক টাইমস বলছে, স্টেফানি তার সঙ্গে ট্রাম্পের যৌন সম্পর্কের কথা যেন প্রকাশ্যে না আনেন, তা বন্ধ করতে এই অর্থ দেওয়া হয়েছিল বলে নিশ্চিত হয়েছে তারা।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প ও ক্লিফোর্ড ২০০৬ সালে লেইক তাহোয় একটি গলফ টুর্নামেন্টে এক হয়েছিলেন, তখনই তাদের মধ্যে যৌন সংসর্গ ঘটেছিল।

তার এক বছর আগে ২০০৫ সালে মেলানিয়াকে বিয়ে করেন ট্রাম্প, যিনি এখন ফার্স্ট লেডি। মডেল মেলানিয়া ট্রাম্পের চতুর্থ স্ত্রী।

কোহেন ও হোয়াইট হাউজ পর্ন অভিনেত্রীর সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্কের কথা অস্বীকার করেছে।

স্টরমি ডেনিয়েলস নামে পর্ন চরিত্রে অভিনয় করে আসা ক্লিফোর্ডও এখন দাবি করেছেন, ওই ধরনের ঘটনা ঘটেনি।

তবে নিউ ইয়র্ক টাইমস অনলাইন সাময়িকী স্লেট-এর প্রধান সম্পাদকের বরাতে দাবি করেছে, ওই ঘটনা আসলেই ঘটেছিল।

২০১৬ সালের অগাস্ট থেকে অক্টোবরের মধ্যে স্লেটের সঙ্গে ধারাবাহিক সাক্ষাৎকারে ক্লিফোর্ড তার সঙ্গে ট্রাম্পের যৌন সম্পর্কের কথা স্বীকার করেছিলেন বলে দাবি সাময়িকীটির সম্পাদক জ্যাকব ওয়েসবার্গের।

তিনি নিউ ইয়র্ক টাইমসকে বলেন, ক্লিফোর্ড তখন বলেছিলেন যে তার সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্কের বিষয়ে মুখ বন্ধ রাখতে কোহেন ১ লাখ ৩০ হাজার ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে ওই অর্থ পাওয়ায় দেরি হওয়ায় সম্পর্কের কথা ফাঁস করে দেওয়ার কথাও ভাবছিলেন ক্লিফোর্ড।

নিজের বক্তব্যের সত্যতার প্রমাণ হিসেবে ক্লিফোর্ডের সঙ্গে আদান-প্রদান করা মেসেজও দেখিয়েছেন ওয়েসবার্গ।

তিনি বলেন, মেসেজ চালাচালির এক পর্যায়ে কথা বন্ধ করে দিয়েছিলেন ক্লিফোর্ড, ফলে তার অনুমতি ছাড়া বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেননি তারা।

মনে করা হচ্ছে, ওই সময়ই অর্থ পেয়ে যাওয়ায় মুখ বন্ধ করে ফেলেন ক্লিফোর্ড।

ঠিক ওই সময়ে এবিসি টিভিতে ‘গুড মর্নিং আমেরিকা’ অনুষ্ঠানেও ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে মুখ খুলতে প্রস্তুতি নিয়েছিলেন ক্লিফোর্ড; কিন্তু সমঝোতা হয়ে যাওয়ায় তা আর ঘটেনি।

ট্রাম্পের আইনজীবী কোহেন এসব খবরের প্রতিক্রিয়ায় এক ই-মেইল বার্তায় বলেছেন, “এই ধরনের গুজব সেই ২০১১ থেকে চলছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম আবারও জোরালোভাবে তা নাকচ করছেন।”

হোয়াইট হাউজ এক বিবৃতিতে বলেছেন, “এটা পুরনো গুজবের চর্বিত চর্বন। এই ধরনের কথা নির্বাচনের আগেও এসেছিল এবং তা জোরালোভাবেই নাকচ করা হয়েছে।”

ক্লিফোর্ড এক বিবৃতিতে বলেছেন, “ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকে আমি অর্থ নিয়েছি বলে যে গুঞ্জন রয়েছে, তা পুরোপুরি বানোয়াট।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Radio Today 89.6fm